ভারতের কৃষকেরাই দেশের অর্থনীতির আসল মেরুদণ্ড। কৃষকেরাই হলো দেশের ভবিষ্যৎ কারণ এরা সমগ্র দেশের মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়। তারা সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তা কেন্দ্র সরকার এদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এসেছেন। কেন্দ্র সরকার এবার কৃষকদের জন্য নতুন একটি প্রকল্প এনেছেন যেখানে প্রতিমাসে তাদের তিন হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। বিভিন্ন সময় দেখা যায় অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বা ফসল নষ্ট হলে বা বার্ধক্যে এসে এই কৃষকেরাই হয়ে পড়েন অসহায় — কাজ করতে পারেন না, আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়, আর জীবনের শেষ পর্বটা কাটে কষ্টে।
এই সমস্যার সমাধানেই কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে “প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা (Pradhan Mantri Kisan Maandhan Yojana – PMKMY)”, যেখানে যোগ্য কৃষকেরা ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ₹৩,০০০ টাকার নিশ্চিত পেনশন পান।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা। তাই কেন্দ্র সরকার এদের জন্য নতুন একটি প্রকল্প এ নেতাদের প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। আসুন, বিস্তারিত জেনে নিই এই প্রকল্পের সুবিধা, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনার মূল উদ্দেশ্য

ভারতের অধিকাংশ কৃষক ছোট বা প্রান্তিক পর্যায়ের — যাদের জমির পরিমাণ কম, আয়ও সীমিত। এদেরও প্রতি মাসে আর্থিক সুরক্ষা দেবে কেন্দ্র সরকার। জীবিকার জন্য তারা অনেক কষ্টে ফসল ফলান, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারদরের অস্থিরতার কারণে অনেক সময় ক্ষতির মুখে পড়েন। কেন্দ্র সরকার এদের জন্য এই বড় প্রকল্প নিয়ে এসেছেন এর মাধ্যমে কৃষকেরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। এই বাস্তবতা বদলানোর জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে চালু করে PM Kisan Maandhan Yojana, যা এখন ২০২৫ সালে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত রূপে চালু হচ্ছে। তাই আপনি যদি এখনো এই প্রকল্পের নাম না লিখে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পের নাম লেখাতে পারেন এবং আপনিও প্রতি মাসে পেয়ে যেতে পারেন তিন হাজার করে টাকা।

এর উদ্দেশ্য হলো—

  • কৃষকদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
  • সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করা যাতে তাঁরা সম্মানজনকভাবে জীবন কাটাতে পারেন।
  • পরিবারের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ রাখা।

 মাসিক ৩০০০ টাকার পেনশন — কতটা উপকার হবে কৃষকদের?

এই স্কিমের আওতায় কৃষকরা ৬০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে ₹৩,০০০ টাকার পেনশন পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে জমা হবে। এজন্য কৃষকদের কিছু করতে হবে না তাদের সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে।

এই অর্থ দিয়ে কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন চাহিদা যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। ফলে বার্ধক্যকালীন জীবন আর হবে না কষ্টের, বরং সম্মান ও নিশ্চিন্ততায় ভরা। এই টাকা বিশেষ করে বার্ধক্য বয়সে কৃষকেরা ভীষণভাবে কাজে লাগাতে পারবে কারণ বার্ধক্য বয়সে তারা আর কৃষি কাজ করতে পারবে না তখন এই টাকায় তাদের আর্থিক সম্বল হয়ে দাঁড়াবে।

 প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য এক নজরে

বিষয় বিস্তারিত
প্রকল্পের নাম প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা (PMKMY)
চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার
শুরু হওয়ার বছর 2019 (নতুন রূপে 2025)
সুবিধাভোগী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা
পেনশনের পরিমাণ প্রতি মাসে ₹৩,০০০
বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪০ বছর
জমার পরিমাণ ₹৫৫ থেকে ₹২০০ (বয়সভেদে)
পেনশন শুরু ৬০ বছর বয়সের পর
পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT মারফত
উত্তরাধিকারী সুবিধা কৃষক মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রী পাবেন ৫০% পেনশন

 কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের প্রায় ৮০% কৃষকই ছোট চাষি, যাদের বার্ষিক আয় নিতান্তই অল্প। অধিকাংশ কৃষকই কোনো বেসরকারি পেনশন স্কিম বা সরকারি কর্মচারী প্রকল্পের আওতায় আসেন না। ফলে বয়স হলে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়।

PMKMY সেই কৃষকদের জন্য এক আশীর্বাদ, কারণ—

  • এটি কৃষকদের বার্ধক্যে নিশ্চিত আয়ের উৎস দেয়।
  • পরিবারে আর্থিক সঙ্কট কমায়।
  • মৃত্যুর পর স্ত্রীও ৫০% পেনশন সুবিধা পান।
  • এটি একটি সম্মানজনক অবসরকালীন পরিকল্পনা, যা সামাজিকভাবে কৃষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

 প্রকল্পে আবেদন করার যোগ্যতা

যে কেউ এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে—

 প্রাথমিক যোগ্যতা:

  • আবেদনকারীকে ভারতের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
  • কৃষি কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে হবে।
  • বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর এর মধ্যে হতে হবে।
  • আবেদনকারীর নামে সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

 প্রয়োজনীয় নথি

আবেদনের সময় নিচের কাগজপত্রগুলো লাগবে:

  • আধার কার্ড
  • ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ব্যাংক পাসবুকের কপি
  • ইনকাম সার্টিফিকেট
  • জমির মালিকানার নথি
  • স্থায়ী বাসিন্দা সনদ

 মাসিক জমা বনাম পেনশন — হিসাব কেমন?

এই প্রকল্পে আবেদনকারীর বয়স অনুযায়ী মাসিক জমা দিতে হবে। জমার পরিমাণ যত কম বয়সে শুরু করবেন, তত কম হবে।

বয়স মাসিক জমা ৬০ বছর বয়সে পেনশন
১৮ বছর ₹৫৫ ₹৩,০০০ প্রতি মাসে
২৫ বছর ₹৭৬ ₹৩,০০০ প্রতি মাসে
৩০ বছর ₹১০০ ₹৩,০০০ প্রতি মাসে
৪০ বছর ₹২০০ ₹৩,০০০ প্রতি মাসে

অর্থাৎ, আপনি যত আগে এই স্কিমে নাম লেখাবেন, ভবিষ্যতে তত বেশি লাভবান হবেন।

 আবেদন প্রক্রিয়া (Online ও Offline)

Offline আবেদন:

নিকটস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বা পোস্ট অফিসে যান।সেখানে “PMKMY” প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করুন। নিজের সমস্ত তথ্য ও নথি সংযুক্ত করে জমা দিন। প্রথম মাসের জমা পরিমাণ জমা দিন। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে আপনার অ্যাকাউন্ট চালু হবে।

 Online আবেদন (CSC মারফত):

  • অফিসিয়াল পোর্টালে লগইন করুন  https://maandhan.in
  • “Pradhan Mantri Kisan Maandhan Yojana” নির্বাচন করুন।
  • অনলাইন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।
  • প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।
  • ফর্ম সাবমিট করুন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংরক্ষণ করুন।

প্রকল্পের সময়সীমা ও সুবিধা গ্রহণ

এই প্রকল্পের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই যেকোনো সময়ে আপনি এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। তাই আপনি যদি মাসিক ৩ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা পেতে চান তাহলে দেরি না করে অবশ্যই আবেদন জানাতে পারেন কারণ ভবিষ্যতে এটি হবে আপনার সম্বল। এই প্রকল্পে যোগদানের জন্য কোনো শেষ তারিখ নেই। অর্থাৎ যেকোনো সময় আবেদন করা সম্ভব। তবে যত তাড়াতাড়ি আবেদন করবেন, তত কম মাসিক জমা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে তত বেশি আর্থিক সুরক্ষা পাবেন।

PMKMY) শুধু একটি পেনশন প্রকল্প নয় — এটি দেশের কোটি কোটি কৃষকের প্রতি সরকারের কৃতজ্ঞতা ও সম্মান। যারা সারাজীবন দেশের খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখেন, তাঁদের বার্ধক্যে যেন অভাব না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। তাই আপনি যদি একজন কৃষক হন এবং এখনও এই স্কিমে আবেদন না করে থাকেন, আজই নিকটস্থ CSC বা ব্যাংকে যোগাযোগ করুন। একটি ছোট মাসিক জমার বিনিময়ে আপনি পাবেন আজীবনের নিশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ, আর সেটাই তো আসল নিরাপত্তা।