প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PM Ujjwala Yojana) চালু হয়েছিল দেশের প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র পরিবারের হাতে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। তবে এবার কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে বিশাল বড় ট্যাবলেট এসেছে যেখানে বলা হয়েছে নতুন এই কাজটি না করলে আপনার গ্যাসের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাবে এবং ডবল দামে কিনতে হবে গ্যাস সিলিন্ডার। বহু বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবার এলপিজি সিলিন্ডারের ভর্তুকি (PMUY LPG Subsidy) পাচ্ছেন। কিন্তু এবার সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নিয়মে এনেছে e-KYC ও বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে e-KYC আপডেট না করা হয়, তাহলে ভর্তুকির টাকা বন্ধ হয়ে যাবে এবং আপনাকে পুরো দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হবে, যা প্রায় দ্বিগুণ দামের সমান।
কেন এই নতুন নিয়ম? সরকারের লক্ষ্য কী?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ভুয়া গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং ভর্তুকি প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানো। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছিল, অনেকেই গৃহস্থালি গ্যাস ব্যবহার না করে তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন—যেমন রেস্টুরেন্ট, চা দোকান, এমনকি অটোরিকশায়ও।
এছাড়া দেখা গিয়েছে, বহু গ্রাহক বছরের সব ক’টি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার ব্যবহার না করেও বুক করেন, যাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি তুলতে পারেন। এই ধরনের অপচয় এবং প্রতারণা রুখতেই কেন্দ্র সরকার এবার প্রতি বছর বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে e-KYC আপডেট বাধ্যতামূলক করেছে।
এভাবে একদিকে যেমন ভর্তুকি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা (transparency) আসবে, অন্যদিকে সরকারের খরচও অনেকটা কমবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময়সীমা
তেল বিপণন সংস্থাগুলি—ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি গ্যাস ও ভারত পেট্রোলিয়াম—সব গ্রাহকের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে যে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে e-KYC না করলে ভর্তুকি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে চিন্তার কিছু নেই। যদি আপনি এর মধ্যে e-KYC সম্পন্ন করেন, তাহলে আগে বন্ধ হয়ে থাকা ভর্তুকির টাকাও আবার ব্যাংকে ফিরে আসবে।
LPG e-KYC কীভাবে করবেন? সহজ উপায়ে ধাপে ধাপে জানুন
LPG e-KYC করা এখন অত্যন্ত সহজ, এবং এর জন্য আলাদা কোনো খরচ হয় না। নিচে তিনটি সহজ উপায়ে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো:
পদ্ধতি ১: অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে
- আপনার গ্যাস কোম্পানির অফিসিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করুন:
- Indane: IndianOil One
- HP Gas: HP Pay
- Bharat Gas: My LPG
- লগইন করুন বা নতুন ইউজার তৈরি করুন।
- ‘e-KYC’ অপশন সিলেক্ট করুন।
- আপনার আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP ভেরিফাই করুন।
- শেষে আঙুলের ছাপ বা আইরিস স্ক্যান দিন।
- কয়েক মিনিটের মধ্যেই কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে।
পদ্ধতি ২: নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে
নিজের এলাকার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে আধার কার্ড নিয়ে যান। সেখানে বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে সহজেই কাজ সম্পন্ন হবে।
পদ্ধতি ৩: ডেলিভারি বয়ের মাধ্যমে
অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস ডেলিভারি বয়ের কাছে বায়োমেট্রিক যন্ত্রসহ মোবাইল অ্যাপ থাকে। সিলিন্ডার ডেলিভারির সময়ই তিনি আপনার e-KYC সম্পন্ন করে দিতে পারেন।
কারা এই e-KYC করবেন?
- যেকোনো গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহক, যার গ্যাস সংযোগ আধারের সঙ্গে যুক্ত।
- বিশেষ করে উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) গ্রাহকরা।
- যাঁদের একাধিক সংযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রতিটির জন্য আলাদা e-KYC করতে হবে।
- বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যের সহায়তা নিতে পারেন।
e-KYC না করলে কী ক্ষতি হবে?
যদি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে e-KYC সম্পন্ন না করেন, তাহলে —
- ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাবে।
- প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য পুরো দাম (ডবল প্রাইস) দিতে হবে।
- উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা বছরে সর্বোচ্চ ১২টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি পান, যেখানে প্রতিটি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে ছাড় থাকে।
অর্থাৎ ভর্তুকি বন্ধ হলে বছরে প্রায় ₹৩,৬০০ অতিরিক্ত খরচ পড়বে।
কেন এই নিয়ম সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ?
এই নিয়ম শুধু উজ্জ্বলা প্রকল্পের উপকারভোগীদের জন্য নয়, বরং সকল এলপিজি গ্রাহকের জন্য বাধ্যতামূলক। সরকার চাইছে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে স্বচ্ছ ও নিরাপদ গ্যাস পরিষেবা পৌঁছে দিতে।
এছাড়া সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ভর্তুকি অপচয় রোধ হবে, এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবাররাই প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা পাবেন।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
তেল মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ৩২ কোটি এলপিজি সংযোগ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি পরিবার উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত। এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহকের e-KYC প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সরকারের কাছে সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে সাহায্য করবে।
রান্নার গ্যাস এখন শুধু একটি প্রয়োজন নয়, এটি প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে হলে এখন সময় এসেছে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে e-KYC সম্পন্ন করার।
৩১ মার্চ ২০২৬-এর আগেই কাজটি করে ফেলুন। এতে আপনার ভর্তুকি বজায় থাকবে, অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যাবে, এবং সরকারের চোখে আপনি থাকবেন একজন সক্রিয় ও সঠিক গ্রাহক।
তাই আজই আপনার e-KYC সম্পন্ন করুন, সরকারের নতুন নিয়মে থাকুন আপডেট, আর ভর্তুকির সুবিধা ধরে রাখুন।

Our team has been engaged in professional content writing for the past 5 years. With extensive experience in creating high-quality, SEO-friendly, and reader-focused articles, we specialize in delivering accurate information on government schemes, education, jobs, technology, and news updates. Our goal is to provide clear, reliable, and engaging content that adds real value to readers while maintaining the highest editorial standards.
