পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বর্তমানে চলছে Special Intensive Revision (SIR)—যেখানে ভোটার তালিকার তথ্য নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর মধ্যে জন্ম সার্টিফিকেট (Birth Certificate) প্রথম সারিতে রয়েছে। তাই আপনার যদি জন্ম সার্টিফিকেট থেকে থাকে আপনার আর কোনো চিন্তা নেই। বর্তমান জন্ম সার্টিফিকেটের গুরুত্ব প্রচুর।

কারণ—

  • এটি বয়স প্রমাণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি
  • এটি পরিচয় যাচাই সহজ করে
  • ডাটা ত্রুটি কমায়
  • ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনে সহায়ক

তবে অনেকের কাছেই এখনও আছে পুরনো, হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট—যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা সন্দেহ।

সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—
হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য।
ডিজিটাল করানো বাধ্যতামূলক নয়, তবে করলে সুবিধা মিলবে বহুগুণ।

ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট কেন এখন সবচেয়ে বেশি কার্যকর?

ডিজিটাল Birth Certificate-এ যুক্ত থাকে—

  • নিরাপদ QR কোড
  •  অনলাইন ডাউনলোড সুবিধা
  • যেকোনো অফিসে সরাসরি স্ক্যান করে যাচাই

অন্যদিকে হাতে লেখা সার্টিফিকেটে—

  • লেখা অস্পষ্ট হতে পারে
  • ভুল তথ্যের ঝুঁকি
  •  অনেক দপ্তরে যাচাই করতে সময় লাগে

হাতে লেখা Birth Certificate ডিজিটাল করা যাবে কোন কোন ক্ষেত্রে? (টেবিলসহ)

নিচের টেবিলে দেখুন—আপনার সার্টিফিকেট ডিজিটাল করা যাবে কি না:

সার্টিফিকেট ইস্যুর সময় ডিজিটাল করা সম্ভব? মন্তব্য
অক্টোবর 1999-এর পরে  সম্ভব পঞ্চায়েত/পুরসভায় রেজিস্টার্ড হলে ১০০% ডিজিটাইজ করা হবে
1987 – 1999 এর মধ্যে  আংশিকভাবে সম্ভব রেকর্ড থাকলে ডিজিটাল হবে
1987 সালের আগে হাসপাতাল থেকে ইস্যু  সম্ভব নয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরনো ডেটা ডিজিটাইজড নয়
রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট থাকলে (ফটোকপি)  সম্ভব আসল না থাকলেও হবে
কোনো নথিই না থাকলে  সম্ভব নয় প্রথমে নতুন রেকর্ড যাচাই করতে হবে

ডিজিটাল Birth Certificate করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি

ডিজিটাল করতে গেলে সঙ্গে রাখতে হবে—

  •  হাতে লেখা আসল জন্ম সার্টিফিকেট
  •  পিতামাতার আধার কার্ড
  •  পিতামাতার ভোটার কার্ড
  •  রেজিস্ট্রেশন নম্বর
  •  দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  •  ফটোকপি থাকলে সেটিও গ্রহণযোগ্য
  •  সার্টিফিকেট হারালে GD কপি প্রয়োজন

হাতে লেখা Birth Certificate ডিজিটাল করতে সম্পূর্ণ ধাপ-ধাপে প্রক্রিয়া

1️⃣ স্থানীয় দপ্তরে যোগাযোগ করুন

আপনার এলাকার পৌরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যান।

2️⃣ পুরনো সার্টিফিকেট যাচাই

কর্মকর্তারা আপনার হাতে লেখা সার্টিফিকেট দেখে রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখবেন।

3️⃣ “ফর্ম A” পূরণ

আপনার তথ্য অনুযায়ী অফিস থেকেই ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির জন্য Form A পূরণ করা হবে।

4️⃣ নথি জমা

আপনার জমা দেওয়া নথি যাচাই করে ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা হয়।

5️⃣ মোবাইল নম্বর লিঙ্ক

এখন থেকে আপনার Mobile No. Birth Record-এর সঙ্গে লিঙ্ক থাকবে— ভবিষ্যতে ডাউনলোড করতে শুধু OTP লাগবে।

6️⃣ ডিজিটাল সার্টিফিকেট সক্রিয় করা

রেকর্ড অনুমোদন হলে আপনি ‘Janma Mrityu Tathya’ ওয়েবসাইট থেকে যখন খুশি সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।

ডিজিটাল সার্টিফিকেটের অতিরিক্ত সুবিধা—যা ভবিষ্যতে কাজে আসবে

  •  যেকোনো সময় PDF ডাউনলোড
  •  পাসপোর্ট, স্কুল অ্যাডমিশনে ঝামেলা কম
  •  SIR প্রক্রিয়ায় দ্রুত যাচাই
  •  নাম বা বানানে ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগ
  •  হারালে নতুন কপি সহজলভ্য
  •  সরকারি দপ্তরে QR স্ক্যানেই ভেরিফাই

SIR 2025-এ জন্ম সার্টিফিকেট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (Quick Summary)

  • বয়স প্রমাণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নথি
  • ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি/সংশোধনে জরুরি
  • ডিজিটাল সার্টিফিকেট থাকলে যাচাই দ্রুত সম্পন্ন
  • কোনো ভুল বা তথ্য বিভ্রান্তি কমে
  • কারো নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি

SIR চলাকালীন এবং ভবিষ্যতের সব সরকারি কাজে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট আপনার কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেটের গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে আমাদের রাজ্যে হাতে লেখা সার্টিফিকেট এখনো বৈধ—তবে একবার ডিজিটাল করে নিলে আজীবন ঝামেলা কমবে। এছাড়াও ডিজিটাল সার্টিফিকেট ছাড়া আপনি পাসপোর্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস গুলো বানাতে পারবেন না।