কেন্দ্র সরকার এবার নতুন একটি প্রকল্প নিয়ে এল যেখানে সাধারণ মানুষদের প্রতি মাসে মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। কেন্দ্র সরকার সাধারণ মানুষদের জন্য বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রকল্প এনেছেন যার মাধ্যমে তারা ভীষণভাবে উপকৃত হচ্ছে। আমরা আমাদের আশেপাশে দেখতে পাই অসংগঠিত শ্রমিকদের আয় সাধারণত অনিয়মিত। অনেকের দৈনিক কাজ আছে, কিন্তু মাসিক স্থায়ী নিরাপত্তা নেই। ঠিক এই সমস্যার কথা বিবেচনা করেই কেন্দ্র সরকার চালু করেছে e-Shram Card প্রকল্প। যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন অর্থাৎ দৈনিক মজুরি হিসেবে কোন কাজ করেন তাদের জন্য কেন্দ্র সরকার চালু করতে চলেছেন নতুন একটি কার্ড আর এই কার্ড থাকলে আপনি প্রতি মাসে মাসে পেয়ে যাবেন ৩০০০ করে টাকা। এই কার্ড থাকলে শ্রমিকরা শুধু সরকারি ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্তই হন না, এই কার্ড থাকলে আপনি অবসরকালীন ভাতাও পাবেন প্রতি মাসে মাসে।

তাই কৃষিশ্রমিক থেকে শুরু করে হকার, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক—সবাইয়ের কাছে এই কার্ড এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
e-Shram Card কী এবং কেন এটি এত জরুরি?
ভারতের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক অসংগঠিত শ্রমিকদের তথ্য একত্রে সংরক্ষণ করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে—এর নাম e-Shram Portal। অনেক মানুষ এই কাড বানিয়েছেন এবং এখনো অনেকে এই কার্ড সম্বন্ধে জানে না বা এই কার্ড বানায়নি। এখানে শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন করলে তৈরি হয় একটি ১২ সংখ্যার ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN)। এই নম্বরের মাধ্যমে শ্রমিকরা ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি প্রকল্পে সহজেই যুক্ত হতে পারবেন। আপনি যদি এখনো এই কার্ডের জন্য আবেদন না করে থাকেন বা না বানিয়ে থাকেন তাহলে অতি শীঘ্রই অফিশিয়াল পোর্টাল থেকে বানিয়ে নিতে পারেন।
e-Shram Card-এর মূল উদ্দেশ্য হলো—
- অসংগঠিত শ্রমিকদের তথ্য এক জায়গায় রাখা
- সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে সহজ অ্যাক্সেস তৈরি করা
- পেনশন, বীমা ও অন্যান্য সুবিধাকে ডিজিটালাইজ করা
এ প্রকল্পের আওতায় যেসব পেশার মানুষ আসতে পারবেন—
দৈনিক মজুরি শ্রমিক, কৃষিকাজে যুক্ত ব্যক্তি, দোকানের কর্মচারী, ডেলিভারি বয়, ড্রাইভার, প্লাম্বার, সেলাই কাজের মানুষ, কারিগর, গৃহকর্মী এবং আরও অনেক ক্ষেত্রের কর্মী। অর্থাৎ এখানে সাধারণ শ্রেণীর মানুষেরা যারা দৈনিক কাজ করে জীবন যাপন করে তাদের জন্য এই প্রকল্প।
মাসিক ৩০০০ টাকা নিশ্চিত পেনশন: কীভাবে পাবেন এই সুবিধা?
e-Shram Card যুক্ত রয়েছে কেন্দ্র সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় Pradhan Mantri Shram Yogi Maandhan Yojana (PMSYM)–এর সঙ্গে। এই স্কিমের মাধ্যমে অসংগঠিত শ্রমিকরা পেনশন সুবিধা পান। আপনি যদি এই কার্ড বানিয়ে থাকেন তাহলে আপনি এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন।
এ স্কিম অনুযায়ী—
➡ ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ₹3000 পেনশন পাবেন।
➡ পেনশনের জন্য শ্রমিককে নিজে সামান্য মাসিক অবদান দিতে হবে।
➡ সমপরিমাণ টাকা কেন্দ্র সরকারও জমা দেবে।
➡ বয়স যত কম, মাসিক অবদান তত কম।
বয়সভিত্তিক মাসিক অবদান (উদাহরণ)
| বর্তমান বয়স | শ্রমিকে জমা দিতে হবে | সরকার জমা দেবে | ৬০ বছর পর মাসিক পেনশন |
|---|---|---|---|
| ১৮ বছর | ₹55 | ₹55 | ₹3000 |
| ৩০ বছর | ₹100–₹120 | ₹100–₹120 | ₹3000 |
| ৪০ বছর | ₹200 | ₹200 | ₹3000 |
এই পেনশন বৃদ্ধ বয়সে একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করে, যা অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কেন্দ্র সরকারের একটি প্রকল্প এবং কেন্দ্র সরকার সমস্ত শ্রেণীর মানুষদের এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেবেন।
কারা e-Shram Card করতে পারবেন? যোগ্যতার সম্পূর্ণ তালিকা
যে কেউ এই কার্ড করতে পারবেন না। এর জন্য কেন্দ্র সরকার নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
| শর্ত | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স | ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে |
| পেশা | অবশ্যই অসংগঠিত খাতে কর্মরত হতে হবে |
| EPFO/ESIC | সদস্য হওয়া যাবে না |
| আধার | মোবাইল নম্বর আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকতে হবে |
| ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট | বাধ্যতামূলক |
যদি এই সব যোগ্যতা পূরণ হয়, তবে সহজেই e-Shram কার্ড করা যায়।
শুধু পেনশন নয়—e-Shram Card-এ রয়েছে একাধিক সুবিধা
অনেকেই শুধুমাত্র পেনশন সুবিধাটি জানেন। কিন্তু এ কার্ড থাকার মানে হলো আরও অনেক সরকারি সুবিধার দরজা খুলে যাওয়া।
১) দুর্ঘটনা বীমা সুবিধা
Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojana (PMSBY)–এর আওতায়— এই কার্ড থাকলে যদি কোন ব্যক্তির দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতায় পড়েন তাহলে তাকে ₹2,00,000 টাকা দেওয়া হবে এবং যদি কেউ ইনজুরি হয় বা আংশিক অক্ষমতায়: ₹1,00,000 টাকা দেওয়া হবে।
২) অসুস্থতার সময় আর্থিক সাহায্য
অসংগঠিত শ্রমিকরা জরুরি চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাহায্য পেতে পারেন।
৩) ভবিষ্যতের শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্প
নতুন প্রকল্প চালু হলে e-Shram ডেটাবেসে থাকা শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন।
৪) কর্মদক্ষতা উন্নয়ন
দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগ তৈরিতে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
অনলাইনে e-Shram Card করার পুরো প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে গাইড
বাড়িতে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের সাহায্যে ৫ মিনিটে e-Shram Card বানানো যায়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বিনামূল্যে।
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
- প্রথমে যান: eshram.gov.in
- ‘Register on e-Shram’ অপশনে ক্লিক করুন।
- আধার নম্বর, জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা কোড দিন।
- OTP দিয়ে পরিচয় যাচাই করুন।
- নাম, ঠিকানা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্য দিন।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ ইনপুট করুন।
- সাবমিট করুন এবং আপনার e-Shram Card Download করে নিন।
সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং খুব সহজ।
কোন কোন ডকুমেন্ট লাগবে? সহজ তালিকা
| প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট | কেন লাগবে |
|---|---|
| আধার কার্ড | পরিচয় ও OTP ভেরিফিকেশন |
| মোবাইল নম্বর | আধার-লিঙ্কড হতে হবে |
| ব্যাঙ্ক পাসবুক | পেনশন ও বীমার টাকা পাওয়ার জন্য |
| পাসপোর্ট সাইজ ছবি | কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে |
অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই।
ভারতের অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য e-Shram Card নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
কারণ এই কার্ডের মাধ্যমে একটি শ্রমজীবী পরিবার শুধু সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসছে না, পাশাপাশি বৃদ্ধ বয়সে পেয়ে যাচ্ছে প্রতিমাসে ৩০০০ টাকার নিশ্চিন্ত পেনশন।
এছাড়া বীমা সুবিধা, চিকিৎসা সাহায্য এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে সরাসরি অ্যাক্সেস—সব মিলিয়ে এটি ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
যারা এখনও e-Shram Card বানাননি, তারা যত দ্রুত সম্ভব অনলাইনে আবেদন করে নিলে নিজেদের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব।

Our team has been engaged in professional content writing for the past 5 years. With extensive experience in creating high-quality, SEO-friendly, and reader-focused articles, we specialize in delivering accurate information on government schemes, education, jobs, technology, and news updates. Our goal is to provide clear, reliable, and engaging content that adds real value to readers while maintaining the highest editorial standards.
