ভারতের অনেক প্রতিভাবান মেয়ে শিক্ষার্থী শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে না। এই সমস্যার সমাধানে আদিত্য বিড়লা ফাউন্ডেশন চালু করেছে Aditya Birla Capital Scholarship, যা মেধাবী ও আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রীদের জন্য এক বিশাল সুযোগ। যারা উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য অবশ্যই এটি একটি বিশাল বড় সুখবর। নবম শ্রেণি থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত মেয়েরা এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ২৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য পেতে পারে।

Aditya Birla Capital Scholarship 2025
Aditya Birla Capital Scholarship 2025

এই রিপোর্টে থাকছে — স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য, কারা আবেদন করতে পারবে, কত টাকা পাওয়া যায়, কী কী ডকুমেন্ট লাগবে এবং সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া।

 স্কলারশিপের মূল উদ্দেশ্য কী?

আদিত্য বিড়লা ক্যাপিটাল লিমিটেডের CSR উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের ছেলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ করে দিতেই এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগ শুধু টাকা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ছাত্রীরা পায় —

  • শিক্ষার খরচে আর্থিক সহায়তা
  • ক্যারিয়ার গাইডেন্স
  • মেন্টরশিপ সাপোর্ট
  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহযোগিতা

এটি মেয়েদের শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে এবং সমাজে নারীশক্তির উন্নয়ন ঘটাতে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে।

 কোন কোন কোর্সে বৃত্তি পাওয়া যাবে?

এই স্কলারশিপটি ভারতীয় ছাত্রীদের জন্য নিম্নোক্ত স্তরে প্রযোজ্য—

  • ক্লাস ৯–১২
  • সাধারণ গ্রাজুয়েশন
  • প্রফেশনাল গ্রাজুয়েশন (B.Tech, BBA, BCA, B.Pharma ইত্যাদি)
  • IIT/NIT/IIM বা অন্যান্য প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউটের কোর্স
  • পোস্ট-গ্রাজুয়েশন

 কত টাকা বৃত্তি পাওয়া যায়?

নীচের টেবিল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাস্তর অনুযায়ী বৃত্তির পরিমাণ দেখে নিন—

স্কলারশিপ ক্যাটেগরি উপযুক্ত ক্লাস/কোর্স বৃত্তির পরিমাণ
ক্লাস 9–12 যেকোন স্বীকৃত স্কুল ₹25,000
জেনারেল গ্রাজুয়েশন (৩ বছর) সরকারি কলেজ ₹30,000
প্রফেশনাল গ্রাজুয়েশন (৪ বছর) সরকারি কলেজ ₹45,000
IIT / NIT / IIM / প্রিমিয়ার ইনস্টিটিউশন প্রফেশনাল ও PG কোর্স ₹60,000

 কারা আবেদন করতে পারবে? — যোগ্যতার নিয়ম

এই স্কলারশিপের জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলি বাধ্যতামূলক—

এখানে আবেদন করতে হলে আবেদনকারিতা অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

 শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • সর্বশেষ পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০% নম্বর অথবা সমতুল্য CGPA থাকতে হবে।

 পারিবারিক আয়

  • পরিবারের বার্ষিক মোট আয় ৬ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।

 বর্তমান শিক্ষাগত অবস্থা

  • নবম শ্রেণি থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন স্তর পর্যন্ত যেকোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হবে।

 আবেদনের জন্য দরকারি ডকুমেন্টস

আবেদনপত্র পূরণ করার সময় নীচের নথিগুলি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে—

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • শেষ পরীক্ষার মার্কশিট
  • পরিচয়পত্র (আধার / প্যান / ভোটার)
  • বর্তমান কোর্সে ভর্তির প্রমাণপত্র
    (ফি রশিদ / অ্যাডমিশন লেটার / কলেজ আইডি / বোনাফাইড সার্টিফিকেট)
  • টিউশন ফি বা বই কেনার রসিদ
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
  • আয়ের সনদ
  • বিশেষভাবে সক্ষম হলে ডিসএবিলিটি সার্টিফিকেট (যদি প্রযোজ্য)

 স্কলারশিপে আবেদন করার পদ্ধতি (অনলাইন)

এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে এরপর প্রয়োজনে সমস্ত তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করে নিতে হবে হবে পরবর্তীকালে লগইন করে মূল ফর্মটা ফিলাপ করতে হবে।

লগইন বা রেজিস্ট্রেশন করুন

  • মোবাইল নম্বর/ইমেল/গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে রেজিস্টার করতে পারবেন।

সঠিক স্কলারশিপ ক্যাটেগরি সিলেক্ট করুন

  • 9–12 / UG / Professional / PG — যেটি আপনার জন্য প্রযোজ্য।

‘Start Application’ ক্লিক করে ফর্ম পূরণ করুন

  • ব্যক্তিগত তথ্য
  • শিক্ষাগত তথ্য
  • পরিবারের আয়ের তথ্য
  • ব্যাঙ্কের তথ্য

সব সঠিকভাবে দিন।

প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন

 Preview করে ‘Submit’ করুন

সবশেষে আপনার ইমেলে একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি চলে আসবে। ভবিষ্যতের জন্য এটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

 আবেদনের শেষ তারিখ

৭ ডিসেম্বর ২০২৫
এই তারিখের পরে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

কেন এই স্কলারশিপ বিশেষ?

  • এই স্কলারশিপ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য
  • ২৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা
  • মেন্টরশিপ ও গাইডেন্স সাপোর্ট
  • স্কুল থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন — সব স্তরে প্রযোজ্য
  • সম্পূর্ণ অনলাইন আবেদন
  • শতভাগ স্বচ্ছতা

শিক্ষার সহায়তা করার জন্য এবং যারা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখে তাদের স্বপ্ন সত্যি করার জন্য এই স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। আপনারা যারা যারা এই স্কলারশিপের আবেদন জানি নাতে চান তারা অবশ্যই আবেদন করতে পারেন।