ভারতের অসংখ্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যায় শুধুমাত্র অর্থের অভাবে। এবার অর্থের অভাবে আর কারো পড়াশোনা বন্ধ হবে না। কেন্দ্র সরকার যেমন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে ঠিক তেমনি রাজ্য সরকারও বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের। বিশেষত যারা শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম, তাঁদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ অনেক সময়ই আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সেই বাধা দূর করতেই অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE) প্রতি বছর ‘সক্ষম বৃত্তি (Saksham Scholarship)’ প্রদান করে থাকে।

২০২৫ অধিবর্ষের জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রত্যেক যোগ্য শিক্ষার্থী বার্ষিক ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। ইতিমধ্যেই এই স্কলারশিপের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এবারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৫, তাই দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

সক্ষম বৃত্তি ২০২৫ কী?

‘সক্ষম বৃত্তি’ হল AICTE–এর একটি বিশেষ স্কলারশিপ প্রকল্প, যার মূল উদ্দেশ্য হল—ভারতের বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার মূলধারায় এনে শক্তিশালী করে তোলা। এছাড়াও এই স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বছরে 50 হাজার টাকা স্কলার্শিপ দেওয়া হবে।

এই স্কলারশিপ মূলত সেই সকল শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় যারা টেকনিক্যাল কোর্স যেমন—ডিপ্লোমা, পলিটেকনিক, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইত্যাদিতে পড়াশোনা করছেন।

এই বৃত্তির লক্ষ্য—

  • উচ্চশিক্ষায় আর্থিক বাধা দূর করা
  • বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া
  • ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরিতে সহায়তা করা

কত টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়?

সক্ষম বৃত্তির অধীনে প্রতিটি যোগ্য শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর মোট ৫০,০০০ টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে— মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি বাবদ এছাড়াও বই খাতা, হোস্টেল ফি, সহ পরীক্ষার খরচ ও অন্যান্য যাবতীয় খরচ চালানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয়।

স্টাইপেন্ডের বিবরণ (

সুবিধার নাম বার্ষিক পরিমাণ ব্যবহার
স্টাইপেন্ড ₹৫০,০০০ পড়াশোনা, কলেজ ফি, বই, সরঞ্জাম, পরীক্ষার খরচ
বৃত্তি মেয়াদ ১ বছর (পরবর্তীতে নবায়নযোগ্য) কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী
প্রদানের ধরন সরাসরি ব্যাংকে (DBT) শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

সক্ষম বৃত্তি ২০২৫ – কারা আবেদন করতে পারবেন?

এই স্কলারশিপ পেতে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। AICTE দ্বারা নির্ধারিত সেই যোগ্যতাগুলো নিচে দেওয়া হলো—

যোগ্যতার তালিকা

  1. AICTE অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি থাকতে হবে।
    • এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম বর্ষ
    • অথবা দ্বিতীয় বর্ষ (ল্যাটারাল এন্ট্রি) ভর্তি থাকতে হবে
  2. শিক্ষার্থীকে বিশেষভাবে সক্ষম হতে হবে।
  3. ন্যূনতম প্রতিবন্ধকতা ৪০% বা তার বেশি হতে হবে।
  4. পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
  5. শিক্ষার্থীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট – কী কী লাগবে?

সক্ষম বৃত্তির আবেদন ফর্ম জমা দিতে নিচের কাগজপত্র বাধ্যতামূলক—

ডকুমেন্ট বিবরণ
মার্কশিট সর্বশেষ পরীক্ষার ফলাফল
প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট ন্যূনতম ৪০% প্রতিবন্ধকতার প্রমাণ
আয়ের শংসাপত্র পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রমাণ
কলেজ অ্যাডমিশন রশিদ ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি থাকার স্বীকৃতি
ব্যাঙ্ক পাসবুক স্টাইপেন্ড পাওয়ার জন্য
আধার/ভোটার আইডি পরিচয়পত্র
পাসপোর্ট সাইজ ছবি রঙিন ছবি

 কীভাবে আবেদন করবেন?

সক্ষম বৃত্তি ২০২৫-এ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইন। আবেদন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—

1.অফিসিয়াল NSP ওয়েবসাইট খুলুন

এক্ষেত্রে আবেদন জানানোর জন্য প্রথমেই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট তথা ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে যান (NSP)

2. ‘New Registration’ নির্বাচন করুন

যদি প্রথমবার আবেদন করেন, তাহলে নতুনভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নতুনভাবে রেজিস্টেশন করতে হলে প্রথমেই চাকরিপ্রার্থীদের মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে নিতে হবে।

3. লগইন করে আবেদন ফর্ম খুলুন

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে দেওয়া আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

4.ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

এরপর আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, শিক্ষাগত তথ্য সঠিক স্থানে দিয়ে—সব সঠিকভাবে লিখুন।

5. ডকুমেন্ট আপলোড করুন

আবেদনপত্রটি সঠিকভাবে ফিলাপ করার পরে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজের ফটো, আধার কার্ড, কলেজের এডমিশন রশিদ সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করুন।

6. যাচাই করে সাবমিট করুন

সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করার পরে শেষবার ফর্মটি ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে সাবমিট করুন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ – আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন

বিষয় তারিখ
আবেদন শুরু ইতিমধ্যেই শুরু
শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৫
তালিকা প্রকাশ পরবর্তী আপডেটে জানানো হবে
স্টাইপেন্ড বিতরণ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর

দেরি না করে এখনই আবেদন করুন, কারণ শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সার্ভার সমস্যা বা OTP ইস্যুতে আবেদন আটকে যেতে পারে।

কেন এই স্কলারশিপ এত গুরুত্বপূর্ণ?

  • বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীর জন্য টেকনিক্যাল শিক্ষার খরচ একা সামলানো কঠিন। তাই সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তাই সকলকে সমাজে অগ্রসরো করার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ।
  • পরিবারের আয় কম হলে এই বৃত্তি বড় সহায়ক হয়ে ওঠে। এর ফলে সকলেই নিশ্চিন্তায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে পারে।
  • পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে আর্থিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • ভবিষ্যতে চাকরি, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কোর্স বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সক্ষম বৃত্তি ২০২৫ বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দেওয়ার মতো একটি উদ্যোগ। যাঁরা পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি সত্যিই বড় সুযোগ। মাত্র কয়েকটি ডকুমেন্ট ও অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কেউ এই স্কলারশিপের সুবিধা পেতে পারেন।

আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি যোগ্য হন, তাহলে ৩০ নভেম্বরের আগেই আবেদন করে নিন। ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণ করার পথে এটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।