ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর আসতে চলেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই কমিশনের Terms of Reference (ToR) বা কাজের পরিধি অনুমোদনও হয়ে গেছে। ফলে এবার শুরু হবে সরকারি বেতন কাঠামো পরিবর্তনের বিশদ পর্যালোচনা।

বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় কর্মচারী এবং ৭০ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী এই কমিশনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়েছিল ২০১৬ সালে। এবার অষ্টম কমিশনের সুপারিশ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে, এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য একটি নতুন পে ম্যাট্রিক্স (Pay Matrix) প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি মূলত সপ্তম বেতন কমিশনের ধাঁচে তৈরি, তবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বড় পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

  • ৭ম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ২.৫৭
  • ৮ম বেতন কমিশনে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ১.৮০ থেকে ১.৯২ এর মধ্যে

এই নতুন হিসাব অনুযায়ী, ন্যূনতম বেসিক বেতন ₹১৮,০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹৩২,৪০০ করা হতে পারে।

বেতনের স্তর সপ্তম কমিশন (বর্তমান বেতন) অষ্টম কমিশন অনুযায়ী প্রস্তাবিত বেতন
ন্যূনতম বেসিক পে (Level 1) ₹18,000 ₹32,400
সর্বোচ্চ বেসিক পে (Level 18) ₹2,18,200 ₹3,92,800 (আনুমানিক)

কবে আসতে পারে রিপোর্ট?

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি বেতন কমিশন গঠনের পর সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেই হিসাবে, অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বা শেষে প্রকাশিত হতে পারে। রিপোর্ট অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উপর প্রভাব

কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের প্রভাব রাজ্যগুলিতেও ব্যাপকভাবে পড়ে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক-সহ বহু রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করে।
তাই এই নতুন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা

বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারীরা বহুদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি —

  • ন্যূনতম বেতন ₹৩০,০০০-এর উপরে করা হোক
  • পেনশন স্কিমে আরও স্বচ্ছতা আনা হোক
  • পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) পুনরায় চালু করা হোক
  • HRA ও TA ভাতায় সংশোধন আনা হোক

কমিশন এই বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেতন বৃদ্ধির বাস্তব উদাহরণ

একজন গ্রুপ-সি কর্মচারীর বেতন যদি বর্তমানে ₹২৫,৫০০ হয়, তবে ১.৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ₹৪৫,৯০০ টাকায়।
একইভাবে, একজন অফিসার যিনি বর্তমানে ₹৭৮,৮০০ বেতন পান, তিনি নতুন কাঠামোয় প্রায় ₹১,৪২,০০০ টাকার বেসিক পেতে পারেন।

DA (Dearness Allowance)-এর ভবিষ্যৎ

DA বৃদ্ধির হারও নতুন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা ৪৮% DA পাচ্ছেন, যা ২০২৬ সালে ৫০% ছাড়িয়ে গেলে আবার DA Merge করে নতুন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

কমিশন কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন?

সরকার এখনো কমিশনের চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করেনি, তবে জানা গেছে যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ IAS অফিসারকে চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব রয়েছে। কমিশনে অর্থ মন্ত্রক, শ্রম মন্ত্রক এবং DoPT-এর প্রতিনিধি থাকবেন।

অষ্টম বেতন কমিশনের গঠন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। এটি কেবল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, বরং সরকারি কর্মব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে একটি বড় পদক্ষেপ।
২০২৬ সাল নাগাদ যখন এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হবে, তখন কেন্দ্র ও রাজ্য দুই ক্ষেত্রেই লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নতুন আশার আলো দেখতে পাবেন।

 গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
অষ্টম বেতন কমিশন সম্পর্কিত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে কমিশনের রিপোর্ট অনুমোদনের পর। তাই গুজবে বিশ্বাস না করে সরকারি নোটিফিকেশন প্রকাশের অপেক্ষা করুন।