বর্তমান সময়ে ভারত সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। আধার কার্ড, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড— সবকিছুই আজ অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে যদি এখনও কেউ নতুন করে কাস্ট সার্টিফিকেট না বানিয়ে থাকে বা কারো কাছে যদি পুরনো কাস্ট সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে সেটি পরিবর্তন করতে হবে। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকার নতুন করে কাস্ট সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট বানানোর কথা বলেছেন সকলকেই। সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন পুরনো হাতে লেখা SC, ST, OBC কাস্ট সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার ব্যবস্থা চালু করেছে। এছাড়াও যাদের কাস্ট সার্টিফিকেট নেই এবং নতুন করে বানাতে চান তাদের জন্যও খুব দ্রুত কাস্ট সার্টিফিকেট বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আগে যেসব কাস্ট সার্টিফিকেট হাতে লেখা অবস্থায় ছিল, সেগুলো এখন নতুন ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট-এ রূপান্তর করা যাবে, এবং চাইলে আপনি ঘরে বসেই এটি তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি ঘরে বসেই নতুন করে কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এতে আর অফিসে লাইনে দাঁড়াতে হবে না, বা কোনো দালালের সাহায্য নিতে হবে না।

কেন কাস্ট সার্টিফিকেট ডিজিটাল করা প্রয়োজন?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এখন প্রতিটি নাগরিকের সরকারি নথি ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত হচ্ছে। ডিজিটাল নথি রাজ্য সরকার সংরক্ষণ করতে পারবে এছাড়াও রাজ্য সরকারের ডাটা বেছে ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ থাকবে ফলে হাতে লেখা নথির আর কোন গুরুত্ব থাকবে না। হাতে লেখা পুরনো কাস্ট সার্টিফিকেটের একাধিক সমস্যা রয়েছে, যেমন:

  • অনেক ক্ষেত্রে লেখা পড়া যায় না বা ফেইড হয়ে যায়,
  • অনলাইন ভেরিফিকেশন সম্ভব নয়,
  • চাকরি, ভর্তি বা বৃত্তির আবেদনে অসুবিধা হয়,
  • হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে পুনরুদ্ধার করা কঠিন।

অন্যদিকে, ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ। এতে থাকে একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন নম্বরQR কোড, যার মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে সার্টিফিকেটটি ভেরিফাই করা যায়।

সুতরাং, আপনার যদি এখনও হাতে লেখা সার্টিফিকেট থাকে, সেটিকে ডিজিটাল ফরম্যাটে আপগ্রেড করাই এখন সময়ের দাবি।

ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেটের সুবিধাগুলি

  1. যেকোনো সময় ডাউনলোডযোগ্য: হারিয়ে গেলে অনলাইন থেকেই আবার ডাউনলোড করা যায়।
  2. নিরাপদ সংরক্ষণ: সরকারি সার্ভারে স্থায়ীভাবে সেভ থাকে।
  3. সরকারি চাকরি ও ভর্তি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক: ডিজিটাল সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক আবেদন এখন আর গ্রহণ করা হয় না।
  4. সহজ ভেরিফিকেশন: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই সত্যতা যাচাই করা যায়।
  5. সময় ও ঝামেলা কম: একদম বাড়িতে বসেই কয়েক মিনিটে সম্পন্ন করা যায়।

ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট করতে প্রয়োজনীয় নথি

ডিজিটালাইজেশন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো আপনার হাতে প্রস্তুত রাখুন

  1. পুরনো হাতে লেখা SC/ST/OBC সার্টিফিকেট (Mandatory)
  2. তবে যদি নতুন করে আবেদন করতে চান তাহলে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে হবে।
  3. আধার কার্ড – আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা মিলিয়ে নিতে হবে
  4. রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ফটো (JPEG ফরম্যাটে, সর্বোচ্চ ৫০ KB)
  5. বৈধ মোবাইল নম্বর – OTP ভেরিফিকেশনের জন্য
  6. ইমেল আইডি (ঐচ্ছিক) – সার্টিফিকেটের আপডেট পেতে

অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ ধাপসমূহ

এখন দেখা যাক কীভাবে ঘরে বসেই আপনি কয়েক মিনিটে আপনার পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেটকে ডিজিটাল সার্টিফিকেটে রূপান্তর করতে পারেন

ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান

প্রথমেই ভিজিট করুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল কাস্ট সার্টিফিকেট পোর্টাল –
🔗 castcertificatewb.gov.in

ধাপ ২: Digitized Certificate অপশন সিলেক্ট করুন

সাইটে ঢোকার পর “Digitized Certificate for SC/ST/OBC” নামে অপশনটি সিলেক্ট করুন। এবং আপনার ক্যাটাগরি অনুযায়ী এখানে আপনি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জানান।

ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন

পরামর্শ: সার্টিফিকেটে যেমন লেখা আছে, হুবহু সেইভাবে তথ্য দিন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন

ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট করুন

সব কিছু ঠিকভাবে পূরণ হয়ে গেলে ফর্মটি সাবমিট করুন। সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গে আপনি একটি Acknowledgement Number পাবেন।

ধাপ ৬: আবেদন স্ট্যাটাস চেক করুন

এরপর আপনি সেই নম্বর দিয়ে “Check Application Status” অপশনে গিয়ে জানতে পারবেন আপনার আবেদন Pending, Approved বা Rejected অবস্থায় আছে কিনা।

ধাপ ৭: সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন

আবেদন অনুমোদিত হলে আপনি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপনার ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে পারবেন। এবং এই ফরমারটি ডিজিটাল সিগনেচার থাকবে যেটি অরিজিনাল হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন করে কাস্ট সার্টিফিকেট বানানোর প্রক্রিয়া

যদি আপনার কাছে পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট না থাকে, তাহলে নতুন ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য একই পোর্টাল থেকেই আবেদন করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে আপনাকে “New Application for Caste Certificate” অপশনটি বেছে নিতে হবে এবং আপনার জাতি, ঠিকানা, ও পরিবার সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে সাবমিট করতে হবে। এতে অফিসে যেতে হবে না, সবকিছু অনলাইনেই সম্পন্ন করা সম্ভব। আবেদন অ্যাপ্রুভ হলে আপনি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন ডিজিটাল কপি।

ডিজিটাল যুগে পুরনো হাতে লেখা কাস্ট সার্টিফিকেট আর ব্যবহার করার দিন শেষ। বর্তমানে কাস্ট সার্টিফিকেট বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন Digitize Caste Certificate System নাগরিকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির পদক্ষেপ।
এখন থেকে কোনো দালাল, লাইনে দাঁড়ানো বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা নেই — শুধু কয়েকটি সহজ ধাপে ঘরে বসেই আপনি তৈরি করতে পারবেন আপনার SC, ST, বা OBC ডিজিটাল সার্টিফিকেট

তাই আপনি যদি এখনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট ব্যবহার করে থাকেন, আর দেরি না করে আজই ডিজিটাল সার্টিফিকেটে আপগ্রেড করুন। এটি কেবল আপনার নথিকে নিরাপদ রাখবে না, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি সরকারি প্রক্রিয়াকে করবে আরও সহজ, দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য।