রাজ্যের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে এলো এক অনন্য উদ্যোগ। নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, আর্কিটেকচার বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কোর্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করতে পারবেন। সরকার ফ্রিতে টিউশন ফি দেবে এদের।
এই প্রকল্পটির নাম ফ্রি-শিপ স্কিম (West Bengal Free-ship Scheme – WBFS)। মূলত এটি এমন একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি রাজ্য সরকার বহন করবে, যাতে তারা আর্থিক বাধার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। আপনি যদি টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে থাকেন তাহলে আর আপনার এই সমস্যা হবে না সরকার সকলকেই ফ্রিতে টিউশন ফি দিয়ে দিবে। এবার থেকে আর টিউশন পড়তেও আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। ফ্রিতে পড়তে পারবেন।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য
ফ্রি-শিপ (WBFS) প্রকল্পের উদ্দেশ্য একেবারেই মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক। রাজ্যের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী রয়েছে, যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের যোগ্যতা রাখে, কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফার্মেসির মতো ব্যয়বহুল কোর্সে ভর্তি হতে পারে না। এছাড়াও অন্যান্য আরো করছে পড়াশোনার জন্য বা খরচের অভাবে পড়াশোনা করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এদের সুবিধা দিচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প সেইসব ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে টিউশন ফি প্রদানের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেধা বৃত্তি, ছাত্রযাত্রীসহ নানা সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে। এবার তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য আরও একটি নতুন প্রকল্প নিয়ে এলেন। এই ফ্রি-শিপ প্রকল্প সেই ধারাবাহিকতারই অংশ — যেখানে “প্রত্যেক মেধার জন্য শিক্ষা” এই মূলমন্ত্রে রাজ্য এগিয়ে চলেছে।
কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য
রাজ্য সরকারের WBFS প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে। যোগ্যতার তালিকাটি নিম্নরূপ—
1. আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।
2.আবেদনকারীকে রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত সরকারি বা বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং/টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে হবে।
3. আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকতে হবে।
4. আবেদনকারীকে অবশ্যই WBJEE, JEE Main বা অন্যান্য স্বীকৃত প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
ফ্রি-শিপ প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ। আবেদন করা যাবে দুই উপায়ে — অনলাইন ও অফলাইন। ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে আবেদন করতে চাইলে দুটি এভাবেই আবেদন জানাতে পারবেন।
সরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য:
সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি কলেজ থেকে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে পূরণ করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করে কলেজ অফিসে জমা দিতে হবে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ যাচাই করে নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠিয়ে দেবে।
বেসরকারি কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য:
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়া ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে সাবমিট করতে হবে। এরপর যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদনের সময় নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে—
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র (Domicile Certificate)
- আধার কার্ড / ভোটার কার্ড
- সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র (Income Certificate)
- সর্বশেষ পরীক্ষার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট
- কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রমাণপত্র (Admission Receipt বা Bonafide Certificate)
আবেদনের শেষ তারিখ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফ্রি-শিপ প্রকল্পের আবেদন চলমান। আগ্রহী ছাত্রছাত্রীদের আগামী ৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পের সুবিধা ও গুরুত্ব
এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। যারা আর্থিক সমস্যার কারণে ব্যয়বহুল কোর্সে ভর্তি হতে পারতেন না, তারা এখন সহজেই ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি বা আর্কিটেকচার পড়তে পারছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফ্রি-শিপ (WBFS) প্রকল্পটি প্রমাণ করছে যে, “টাকা নয়, মেধাই শিক্ষার আসল যোগ্যতা।” যে কোনো মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রী, যিনি স্বপ্ন দেখেন বড় কিছু করার, তার জন্য এই প্রকল্প একটি আশীর্বাদ। তাই যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফার্মেসিতে ভর্তি হতে চান কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে দ্বিধায় ভোগেন — এখনই আবেদন করুন এই প্রকল্পে এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন।

Our team has been engaged in professional content writing for the past 5 years. With extensive experience in creating high-quality, SEO-friendly, and reader-focused articles, we specialize in delivering accurate information on government schemes, education, jobs, technology, and news updates. Our goal is to provide clear, reliable, and engaging content that adds real value to readers while maintaining the highest editorial standards.
