বর্তমানে প্রতিটি সরকারি নথি ধীরে ধীরে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে কাস্ট সার্টিফিকেট— সবকিছুই এখন অনলাইনে যাচাইযোগ্য। আপনার কাছে যদি এখনো ডিজিটাল কার্ড না থেকে থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি বানিয়ে নিন। যাদের কাছে পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট রয়েছে তারাও এবার নতুন করে ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানাতে পারবেন। নতুন করে এবার ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানানোর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জন্ম ও মৃত্যু সনদ। যাদের কাছে এখনও পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট রয়েছে, তাদের জন্য এসেছে সুখবর — এখন আপনি খুব সহজেই সেটিকে ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেটে (Digital Birth Certificate) রূপান্তর করতে পারবেন। এছাড়াও যারা এখনো সার্টিফিকেট বানাননি তারাও নতুন করে ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানাতে পারবেন।

ডিজিটাল সার্টিফিকেটের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এতে থাকে QR কোডইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর, যার মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে যাচাই করা যায়। তাই আপনার কাছে যদি ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে এটি সমগ্র ক্ষেত্রে বৈধ হবে কিন্তু আর পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট বৈধ হবে না। তাই হাতে লেখা সার্টিফিকেটের মতো ভুয়ো বা অবৈধ হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না।

কেন ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট প্রয়োজন

পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট অনেক জায়গায় এখন আর গ্রহণ করা হয় না, কারণ তা সহজে অনলাইন যাচাই করা যায় না। এছাড়াও পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেটগুলি জাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জাল নথি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল ভর্তি, সরকারি চাকরির আবেদন, পাসপোর্ট বা আধার সংযুক্তিকরণে ডিজিটাল সার্টিফিকেট এখন বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল সার্টিফিকেট অনলাইনে যাচাই করা যায় এর ফলে জাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এছাড়াও এটি হারিয়ে গেলে খুব সহজেই পাওয়া যায়।

কারা সার্টিফিকেট ডিজিটাল করতে পারবেন

  • সাধারণত ১৯৯৯ সালের অক্টোবরের পর যেসব জন্ম সনদ পঞ্চায়েত বা পৌরসভা থেকে ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি ডিজিটাল করা সম্ভব। এবং যারা যারা ডিজিটাল করতে চান তারা অবশ্যই পুরনো সার্টিফিকেট নিয়ে নতুন করে ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানাতে পারেন অথবা নতুন করে আবেদন করে নিউ সার্টিফিকেট বানাতে পারেন।
  • তবে ১৯৮৭ সালের আগের হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত হাতে লেখা সার্টিফিকেটগুলি অনেক সময় ডিজিটালাইজ করা যায় না। তবে বর্তমান ডিজিটাল করা সম্ভব এবং এক্ষেত্রে নতুন সার্টিফিকেট বানানো যাচ্ছে। কিন্তু আপনার কাছে যদি পুরনো সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে সেটি থেকে নতুন সার্টিফিকেট বানানো খুব সহজেই হয়ে যাচ্ছে।
  • সার্টিফিকেটে যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্টভাবে লেখা থাকে, তাহলে ডিজিটাল প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।

কীভাবে করবেন ডিজিটালাইজেশন

মনে রাখতে হবে, এই প্রক্রিয়াটি আপনি নিজে অনলাইনে করতে পারবেন না। এর জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত অফিস বা পৌরসভা অফিসে যেতে হবে, যেখানে আপনার জন্ম সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছিল। এরপর এখানে গিয়ে আপনাকে পুরনো সার্টিফিকেটটি জমা দিতে হবে এবং সেখানে কর্মীরা আপনার তথ্য যাচাই করে “Form-A” পূরণ করবেন। এরপরই আপনার জন্ম সনদটি ডিজিটালাইজ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

ডিজিটাল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে নিচের নথিগুলি প্রস্তুত রাখুন —

  1. আসল পুরনো হাতে লেখা জন্ম সার্টিফিকেট
  2. পিতা-মাতার আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড
  3. আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর (ভেরিফিকেশনের জন্য)
  4. ফটোকপি স্পষ্টভাবে স্ক্যান করা থাকতে হবে

যদি সার্টিফিকেট হারিয়ে যায়

যদি আপনার আসল হাতে লেখা সার্টিফিকেট হারিয়ে যায়, চিন্তার কিছু নেই। এক্ষেত্রেও আপনি নতুন করে আবার নতুন সার্টিফিকেট বানাতে পারবেন। যদি আপনার কাছে সেটির ফটোকপি বা পোলিও কার্ডে লেখা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে, তবুও আপনি ডিজিটাল সার্টিফিকেট পেতে পারেন। এছাড়াও নতুন করে আপনি একটি জিডি করবেন এবং সেই কাগজ নিয়ে নতুন করে আবার ডিজিটাল সার্টিফিকেট বানানো সম্ভব।

এই ক্ষেত্রে থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি (GD) করে তার কপি জমা দিতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আপনার জন্মের তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে।

ডিজিটাল সার্টিফিকেটের সুবিধা

একবার সার্টিফিকেট ডিজিটাল হয়ে গেলে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে যতবার খুশি অনলাইনে ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়াও এখানে ভুল তথ্য খুব সহজে সংশোধন করা যায় কাগজপত্রের আর তেমন কোন ঝামেলা থাকবে না আপনি মোবাইলে এটি কারি করতে পারবেন যেকোনো সরকারি দপ্তরে এবং যখন খুশি আপনি মোবাইল থেকে বের করে কাজে লাগাতে পারবেন।

এই সার্টিফিকেটে থাকা QR কোড ও ইউনিক নম্বরের সাহায্যে যেকোনো অফিস থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতের দিকে এক বড় পদক্ষেপ

ভারত সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের এই ডিজিটাল পদক্ষেপ নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করছে।
ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেট কেবলমাত্র একটি ডকুমেন্ট নয়, এটি আপনার পরিচয়ের একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল প্রমাণ।

যাদের এখনও হাতে লেখা জন্ম সনদ রয়েছে, তাদের এখনই এটি ডিজিটালাইজ করে নেওয়া উচিত। এতে ভবিষ্যতে কোনও সরকারি পরিষেবা নেওয়ার সময় সমস্যায় পড়তে হবে না।

পুরনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট এখন অতীতের বিষয়।
ডিজিটাল জন্ম সার্টিফিকেটের মাধ্যমে আপনি শুধু নিজের পরিচয়কেই সুরক্ষিত রাখবেন না, বরং সরকারি দপ্তরে সময় ও পরিশ্রম দুটোই বাঁচাতে পারবেন।

তাই যদি আপনার জন্ম সার্টিফিকেট এখনও হাতে লেখা হয়, আজই কাছের পৌরসভা বা পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করে সেটিকে ডিজিটাল করে নিন — ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি “Smart Move”