বর্তমান ডিজিটাল যুগে সরকারি পরিষেবা এখন হাতের নাগালে। এখন সমস্ত কিছু অনলাইনের মাধ্যমে এবং ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব। আগে যে কাজের জন্য সরকারি অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হতো, এখন তা সম্ভব হচ্ছে ঘরে বসেই। আগে পঞ্চায়েত অফিস থেকে বা বিডিও অফিস থেকে কোন ডকুমেন্টস নিতে হলে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো বা অপেক্ষা করতে হতো দীর্ঘক্ষণ তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই ডিজিটাল উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চালু করেছে eDistrict 2.0 Portal, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও পরিষেবা অনলাইনে পেতে পারেন। এই পোর্টালের অন্যতম জনপ্রিয় পরিষেবা হলো Domicile Certificate (Local Resident Certificate)।

যারা পড়াশোনা করছেন বা যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছেন তাদের সকলেরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট থাকতে হবে। কারণ রেলের চাকরি থেকে শুরু করে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন চাকরি করতে গেলে এক্ষেত্রে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট মূলত একটি সরকারি নথি যা প্রমাণ করে আপনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। এটি শুধুমাত্র একটি কাগজ নয়, বরং চাকরি, স্কলারশিপ, বাসস্থান, ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কী?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) হলো এমন একটি সরকারি নথি যা একজন ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ও বাসস্থান প্রমাণ করে। আপনি কোন রাজ্যের বা কোন জেলায় বসবাস করেন তার একটি প্রমাণ হল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বোঝানো হয় যে আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন এবং তিনি এখানকার অধিবাসী।
এই সার্টিফিকেট সাধারণত রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত হয় এবং বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি কাজে নাগরিকের পরিচয় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই সকলেরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বানিয়ে রাখা ভালো।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কেন দরকার?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অসংখ্য। এটি শুধু ঠিকানার প্রমাণ নয়, বরং রাজ্যের নাগরিক হিসেবে আপনার অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করার একটি চাবিকাঠি। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার উল্লেখ করা হলো —
- শিক্ষা ও স্কলারশিপের ক্ষেত্রে:
অনেক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ প্রোগ্রামে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ কোটা বা রিজার্ভেশন থাকে। - সরকারি চাকরির আবেদন:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরিতে আবেদন করতে গেলে প্রায়ই স্থানীয় বাসিন্দার প্রমাণ হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। - বাসস্থান ও জমি সংক্রান্ত কাজ:
সরকারি হাউজিং স্কিম, জমি ক্রয়-বিক্রয় বা হোম লোনের ক্ষেত্রে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট একটি নির্ভরযোগ্য নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। - ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক সুবিধা:
বিভিন্ন সরকারি বা আধা-সরকারি ব্যাংক ঋণ প্রক্রিয়ায় এই সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। - সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে অংশগ্রহণ:
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ও সুবিধা পাওয়ার জন্য এটি আবশ্যক।
পশ্চিমবঙ্গে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট অনলাইনে কিভাবে পাবেন
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার eDistrict 2.0 Portal চালু করেছে যেখানে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো —
ধাপ 1: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
👉 https://edistrict.wb.gov.in/portal/home
এই লিংকে গিয়ে eDistrict 2.0 Portal খুলুন।
ধাপ 2: নতুন ইউজার রেজিস্ট্রেশন
যদি আপনি নতুন ব্যবহারকারী হন, তাহলে প্রথমেই আপনাকে “Citizen Registration” এ ক্লিক করুন।
এরপর আপনার নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এখানে আপনার নিজস্ব মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল আইডি অবশ্যই থাকতে হবে কারণ মোবাইল নাম্বারে ও ইমেইল আইডিতে ওটিপি আসবে। OTP ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
ধাপ 3: লগইন করা
রেজিস্ট্রেশনের পরে আপনাকে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে এবং প্রাপ্ত User ID ও Password ব্যবহার করে পোর্টালে লগইন করুন।
ধাপ 4: সার্ভিস নির্বাচন
লগইন করার পরে “Services” ট্যাবে ক্লিক করুন।
সেখানে “Certificates” বিভাগে গিয়ে “Local Resident (Domicile) Certificate” নির্বাচন করুন।
ধাপ 5: আবেদন ফর্ম পূরণ
এখন আবেদন ফর্ম খুলবে। এখানে আপনাকে নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে —
- নাম, লিঙ্গ, জন্মতারিখ
- আধার নম্বর (যদি থাকে)
- ইমেল আইডি ও মোবাইল নম্বর
- স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা
- বাবা/মায়ের নাম ও পেশা
- আপনি কত বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন
- জমি বা সম্পত্তির বিবরণ (যদি থাকে)
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Save & Next” এ ক্লিক করুন।
এরপর আপনাকে Acknowledgement Number / Application ID দেওয়া হবে যেটা দিয়ে আপনি ট্র্যাক করে দেখতে পারেন আপনার সার্টিফিকেটের স্ট্যাটাস এবং পরবর্তীকালে আপনি এই নাম্বার দিয়েই সার্টিফিকেটটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। সার্টিফিকেটের ডিজিটাল সিগনেচার থাকবে এবং কিউআর কোড থাকবে যা দিয়ে আপনি সার্টিফিকেটের বৈধতা এবং সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়। নিচে প্রয়োজনীয় নথিগুলির তালিকা দেওয়া হলো —
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- আধার কার্ড / ভোটার আইডি / প্যান কার্ড
- জন্ম প্রমাণপত্র (Birth Certificate বা মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড)
- স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণপত্র (গ্রাম পঞ্চায়েত বা পৌরসভার সার্টিফিকেট)
- জমি বা বাড়ির কাগজপত্র (খতিয়ান, ডিড, পরচা – যদি থাকে)
নথিগুলি অবশ্যই পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করা থাকতে হবে এবং ফাইলের সাইজ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এখন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাওয়া একেবারেই সহজ। আগে যেটা পেতে দিনের পর দিন অফিসে দৌড়াতে হতো, এখন তা মাত্র কয়েক মিনিটেই অনলাইনে পাওয়া যায়। eDistrict 2.0 পোর্টাল–এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাগরিকদের জন্য এক নতুন ডিজিটাল দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তাই যদি আপনারও প্রয়োজন হয় পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, আজই লগইন করুন https://edistrict.wb.gov.in এ এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

Our team has been engaged in professional content writing for the past 5 years. With extensive experience in creating high-quality, SEO-friendly, and reader-focused articles, we specialize in delivering accurate information on government schemes, education, jobs, technology, and news updates. Our goal is to provide clear, reliable, and engaging content that adds real value to readers while maintaining the highest editorial standards.
