আপনি কি ভবিষ্যতে জমি বিক্রি অথবা ক্রয় করতে চান। অথবা আপনি কি ফ্ল্যাট বাড়ি ক্রয় করবেন বা বিক্রয় করবেন ভাবছেন? আপনি যদি নিয়মিত জমি বিক্রি বা ক্রয় করেন অথবা আপনার যদি ইচ্ছা থাকে ভবিষ্যতের জমি ক্রয় বা বিক্রি করার তাহলে এক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার নিয়ে এসেছে নতুন নিয়ম যেটা আপনাকে আগে থেকে জেনে নেওয়া দরকার। ভারত সরকার এখন “ডিজিটাল ইন্ডিয়া” মিশনের অধীনে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রশাসনিক কাজগুলো সহজ ও অনলাইনভিত্তিক করে তুলতে চাইছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় জমি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতেও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন অনেক ক্ষেত্রেই ঘরে বসেই অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হবে। তবে এক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে আনা হয়েছে বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন।

এই পদক্ষেপের ফলে নাগরিকদের সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম— তিনটিই বাঁচবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক Land Registry New Rule 2025-এর গুরুত্বপূর্ণ দিক ও সুবিধাগুলি।

নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে?

আগে পর্যন্ত জমি বা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি পুরোপুরি অফলাইনে করতে হতো— রেজিস্ট্রি অফিসে লম্বা লাইন, কাগজপত্র যাচাই, সাক্ষর ইত্যাদি নানা ঝামেলা ছিল। এখন হবে সমস্ত কিছু অনলাইনের মাধ্যমে আর আগের মত কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না জমি ক্রয় অথবা বিক্রি করলে। কিন্তু এখন থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী Land Registry New Rule 2025-এর মূল পরিবর্তনগুলো হলোঃ

  1. আধার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক — মালিক ও ক্রেতা উভয়ের পরিচয় যাচাই আধার কার্ডের মাধ্যমে হবে। এছাড়াও আঁধারের সমস্ত তথ্য থাকবে দলিলে ফলে যাচাই করতে সুবিধা হবে ।
  2. সমস্ত নথি অনলাইনে আপলোড করতে হবে — রেজিস্ট্রি ডিড, ট্যাক্স প্রুফ, সেল এগ্রিমেন্ট ইত্যাদি সমস্ত তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় এর ফলে যে কোন তথ্য খুব সহজেই পাওয়া যাবে অথবা দলিল হারিয়ে গেলে সেটি বাড়িতে বসেই আবার ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে।
  3. অনলাইন পেমেন্ট ছাড়া রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হবে না।
  4. রেজিস্ট্রির ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক — এটি ভবিষ্যতের আইনি প্রমাণ হিসেবেও কাজ করবে।

এই ধাপগুলোর যেকোনো একটি অসম্পূর্ণ থাকলে রেজিস্ট্রি আইনি দিক থেকে বাতিল হতে পারে।

রেজিস্ট্রির পর কোন পদক্ষেপগুলো নিতে হবে?

নতুন নিয়মে শুধু রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করলেই মালিকানা স্বীকৃত হবে না। তার পরেও কিছু অতিরিক্ত ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, যেমনঃ

  • আধার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করা
  • প্রয়োজনীয় ডিজিটাল নথি আপলোড করা
  • সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধ করা
  • রেজিস্ট্রির ডিজিটাল কপি ডাউনলোড ও সংরক্ষণ

যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ধাপগুলো সম্পন্ন না হয়, তাহলে রেজিস্ট্রি “Inactive” বা বাতিল ঘোষিত হতে পারে।

ঘরে বসে রেজিস্ট্রি করার সুবিধা

নতুন অনলাইন প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ নাগরিকদের অনেক সুবিধা মিলবে। যেমনঃ

  • সময় ও অর্থের সাশ্রয়: অফিসে যাওয়া বা এজেন্টের কমিশন দেওয়ার ঝামেলা নেই। এর ফলে যেমন একদিকে সময় সাশ্রয় হবে অন্যদিকে অর্থেরও সাশ্রয় হবে।
  • প্রতারণা রোধ: আধার বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের ফলে মিথ্যা পরিচয়ে রেজিস্ট্রির সম্ভাবনা কমে যাবে। এর ফলে ভুল করে কোন জমি রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না।
  • তাৎক্ষণিক যাচাই: জমির মালিকানা বা ট্যাক্স তথ্য অনলাইনে সহজেই দেখা যাবে।
  • ডিজিটাল রেকর্ড: সব নথি ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকবে, হারানোর ভয় থাকবে না।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

অনলাইনে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় নিচের নথিগুলি আপলোড করতে হবে –

  • আধার কার্ড (Aadhaar Card)
  • প্যান কার্ড (PAN Card)
  • সেল ডিড বা প্রপার্টি ডিডের কপি
  • ট্যাক্স রসিদ বা মালিকানার প্রমাণ
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • অনলাইন পেমেন্ট রিসিট

কোথায় এবং কাদের জন্য প্রযোজ্য?

এই নতুন নিয়মটি ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গ-এ এই ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপনারা যদি এই সমস্ত এলাকার বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনাদেরও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যারা জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ির মালিক বা ক্রেতা, তাঁদের সকলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সতর্কতা ও সরকারি পরামর্শ

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেকেই রেজিস্ট্রির পর অনলাইন ভেরিফিকেশন না করায় ভবিষ্যতে জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। তাই এবার জমি ক্রয় বা বিক্রি করার পরে রেজিস্ট্রেশন করার সময় সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে ভেরিফিকেশন করা হবে এর ফলে সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে থাকবে তাই ভবিষ্যতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। তাই রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন যাচাই ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জমি রেজিস্ট্রির নতুন এই নিয়ম নিঃসন্দেহে ভারতের জমি সংক্রান্ত ব্যবস্থায় এক বড় পদক্ষেপ। নতুন এই পদক্ষেপ এর ফলে ভারত যেমন ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি সমস্ত দিকেই অনলাইনের মাধ্যমে সমস্ত কাজ করা সম্ভব হবে। এর ফলে মানুষের অর্থ সাশ্রয় হবে ও সময়ও অনেক কম লাগবে। নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই নিজেদের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করতে পারবেন, যা সময় বাঁচাবে ও স্বচ্ছতা আনবে।
তবে এখনো সব রাজ্যে এই পরিষেবা পুরোপুরি চালু হয়নি। খুব শীঘ্রই সারাদেশে এটি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের এই উদ্যোগে যুক্ত হয়ে আপনিও হোন “Digital India”-র অংশ।