পশ্চিমবঙ্গের কৃষক বন্ধুদের জন্য এ বছর বড়ো উপহার নিয়ে এল রাজ্য সরকার। কৃষকদের একাউন্টে ঢুকবে এবার ডবল ডবল টাকা। রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নিয়ে এসেছেন যার মাধ্যমে কৃষকেরা ভীষণভাবে উপকৃত হচ্ছে। আবারো কৃষকদের জন্য দারুন একটি আপডেট আনা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। কৃষকেরা এবার তাদের ন্যায্য মূল্য পাবেন। কৃষি উন্নয়ন দপ্তরের সর্বশেষ ঘোষণায় জানা গেছে, ধানের সহায়ক মূল্য (Paddy MSP) বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (Minimum Support Price) এ বছর বেড়ে গেছে। এর ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক কৃষকের মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে নতুন হারে ধান ক্রয় শুরু হচ্ছে। আগে এক কৃষকেরা যে টাকায় ধান বেচতেন তার দ্বিগুণ দামে এবার সরকার ধান কিনবে কৃষকদের থেকে।

কৃষকদের সুবিধার জন্য নতুন নিয়ম

এবার থেকে প্রতি কৃষক ন্যূনতম ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন, যা আগে অনেক কম ছিল। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল পর্যন্ত ধান বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় ও ছোট—উভয় শ্রেণির কৃষকই উপকৃত হবেন। এর ফলে কৃষকেরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং এখানে কৃষকদের সরাসরি প্রচুর টাকা লাভ হবে। এর ফলে কৃষকদের পাবেন সরাসরি বেনিফিট।

সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি ব্লক পর্যায়ে ধান ক্রয় কেন্দ্র (Paddy Procurement Centre) চালু থাকবে, যাতে কৃষকদের আর দূরে যেতে না হয়। এর ফলে কৃষকের নিজেদের ধান নিজেরাই বিক্রি করতে পারবেন এবং প্রচুর টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

ঘরে বসেই ধান বিক্রির বুকিং

কৃষকদের সুবিধার্থে এবার সম্পূর্ণ অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘরে বসে আপনি মোবাইল দিয়েই অনলাইন এর মাধ্যমে সরকারের ওয়েবসাইটে গিয়ে বুকিং করে নিতে পারবেন। এখন থেকে কৃষকরা ঘরে বসেই ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ধান বিক্রির জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়— আর আপনাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে না বা লম্বা লাইন দাঁড়ানোর কোন ঝামেলা নেই এছাড়াও এখানে সরাসরি টাকা ঢুকবে ব্যাংক একউন্টে।

অর্থাৎ, চাষিরা এখন ঘরে বসে সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারবেন, আর বিক্রয়ের ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা পৌঁছে যাবে ব্যাঙ্কে। এখানে কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই আপনি সরাসরি সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং অতীত টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

দ্বিগুণ টাকার সুবিধা

কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় কৃষকদের অর্থপ্রাপ্তি দ্বিগুণ হবে, কারণ আগের বছরের তুলনায় এবার অনেকেই অনলাইনে সরাসরি বিক্রি করছেন এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে যেতে হচ্ছে না। এর ফলে একটি কার্ড দিয়ে আপনি অনেক ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং আপনার পরিবারের সমস্ত ধান আপনি এই কার্ড দিয়ে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। সরকারের তরফে দেওয়া সাবসিডি ও বোনাস মিলিয়ে কৃষকরা প্রায় দ্বিগুণ লাভ পাবেন।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

ধান বিক্রয়ের জন্য কৃষকদের করতে হবে নিচের সহজ ধাপগুলো:

  1. রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল কৃষি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  2. “Farmer Registration” অপশনে ক্লিক করুন।
  3. আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও জমির বিবরণ দিন।
  4. OTP ভেরিফিকেশন করে সাবমিট করুন।
  5. বুকিং সফল হলে ধান জমা দেওয়ার সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।

কৃষকদের প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের বিভিন্ন জেলার চাষিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, আগে পাইকারদের হাতে ধান বিক্রি করে লোকসান হত। এর ফলে অনেক কম টাকা দিতে পাইকার কিন্তু বেশিরভাগ মুনাফা পাইকার নিজে পকেটে রেখে দিত। এখন সরকারি দামে বিক্রি করতে পারায় আয় নিশ্চিত হচ্ছে এবং কৃষিকাজে উৎসাহও বাড়ছে। এর ফলে কৃষকদের আরও ধান চাষের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ দুটি বাড়বে। এর ফলে আগে কৃষকেরা দেখানে বাজারে গিয়ে ২০০০ টাকায় ধান বিক্রি করতো সেখানে এখন ২৩৮৯ টাকায় ধান বিক্রি করায় তাদের প্রচুর পরিমাণে মুনাফা হবে।

ধানের সহায়ক মূল্যে বড় বৃদ্ধি

রাজ্য সরকারের কৃষি ও খাদ্য দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য কুইন্টালপ্রতি ₹২৩৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর এই দাম ছিল ₹২৩২০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কুইন্টালে ₹৬৯ টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এটি এক বড় সুখবর, কারণ এই বৃদ্ধির ফলে তাদের আয় সরাসরি বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধানের সহায়ক মূল্যের এই বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বিক্রয় পদ্ধতি ভবিষ্যতে রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে বিপ্লব আনবে। ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গ যেহেতু কৃষি নির্ভর রাজ্য তাই পশ্চিমবঙ্গ এর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি সরকার ধান ক্রয় করলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকেরা বেশি টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবে এবং তারা কৃষিকাজের প্রতি আরো আগ্রহ দেখাবে। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আসবে, অন্যদিকে কৃষকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

কৃষি দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনে অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও একইরকম অনলাইন বিক্রয় ও মূল্যবৃদ্ধি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ধানের সহায়ক মূল্যের এই বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে রাজ্যের কৃষকদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিল। ডিজিটাল বিক্রয় ব্যবস্থা ও সরাসরি ব্যাঙ্কে অর্থ প্রদান কৃষকদের জীবনে এনেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। সরকারের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র কৃষকদের নয়, গোটা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।