পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের দপ্তর থেকে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা জারি করা হয়েছে, যা রাজ্যের ভোটারদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, Special Intensive Revision (SIR) ফর্ম পূরণের সময় কোনো প্রকার কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ, এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী হতে চলেছে।

SIR ফর্ম কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

SIR বা Special Intensive Revision হল এমন একটি বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া, যেখানে নাগরিকরা তাঁদের নাম, ঠিকানা বা তথ্য সংশোধন করতে পারেন।
প্রতি বছরই নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া চালায় যাতে ভোটার তালিকাটি হালনাগাদ থাকে এবং কোনো যোগ্য ভোটার বাদ না পড়ে।
আগে এই ফর্ম জমা দেওয়ার সময় অনেক ডকুমেন্ট যেমন পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ ইত্যাদি সংযুক্ত করতে হতো। কিন্তু এবার সেই বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন এসেছে?

নির্বাচন কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, SIR ফর্ম জমা দেওয়ার সময় কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না।
শুধু BLO (Booth Level Officer) থেকে পাওয়া ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিলেই নাগরিকের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচিত হবে।

এই নিয়মের ফলে বহু মানুষের মনে থাকা বিভ্রান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। আগে অনেকেই ভাবতেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কপি বা পুরোনো নথি জমা দিতে হবে, যা এখন আর লাগবে না।

ফর্ম বিলি ও জমা দেওয়ার সময়সূচি

নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, SIR ফর্ম বিতরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে ৪ঠা নভেম্বর ২০২৫ থেকে, এবং চলবে ৪ঠা ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।
এই সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের তাঁদের ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছে জমা দিতে হবে।

এরপর ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, এবং ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত শুনানি ও যাচাই (Hearing & Verification) প্রক্রিয়া চলবে।

২০০২ সালের ভোটার তালিকা — কেন এখনও গুরুত্বপূর্ণ

যদিও এই নতুন নিয়মে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা জমা দেওয়ার দরকার নেই, তবে নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের সেটি হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
কারণ, ফর্ম পূরণের সময় পুরোনো তালিকাটি একটি রেফারেন্স হিসেবে কাজে আসে।

  • যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল, তাঁরা ফর্মের বাঁদিকের অংশ পূরণ করবেন।
  • আর যাঁদের নাম ছিল না, কিন্তু পরিবারের কোনো সদস্যের নাম সেই তালিকায় ছিল, তাঁরা ফর্মের ডানদিকের অংশ পূরণ করবেন।

এভাবে পুরনো ভোটার লিস্ট হাতে থাকলে ফর্ম পূরণের সময় ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে।

ফর্ম জমা দেওয়ার পর কী হবে?

SIR ফর্ম জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় (Draft Voter List) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
যদি কোনো কারণে জমা দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সংশয় বা আপত্তি থাকে, তাহলে BLO বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর ঠিকানায় একটি নোটিশ পাঠাবে।
তখন নাগরিককে নির্দিষ্ট তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে (Hearing) উপস্থিত হতে হবে।

তবে, যদি কোনো নোটিশ না আসে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফর্মে কোনো সমস্যা হয়নি, এবং ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ এক নজরে

কার্যক্রম তারিখ
ফর্ম বিলি ও জমা ৪ নভেম্বর – ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
শুনানি ও যাচাই পর্ব ৯ ডিসেম্বর – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন নিয়মের ফলে সাধারণ মানুষের লাভ কী?

নতুন এই পদক্ষেপে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া হবে অনেক সহজ, দ্রুত ও জটিলতাহীন।
নাগরিকদের আর ডকুমেন্ট জোগাড় করা বা ফটোকপি সংযুক্ত করার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ, বয়স্ক নাগরিকঅশিক্ষিত ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজলভ্য হবে।

এছাড়া, BLO-দের কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে, কারণ এখন তাঁরা শুধুমাত্র ফর্ম যাচাই ও তথ্য মিলিয়ে নিলেই হবে — আলাদা নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই।

কমিশনের বার্তা: সকলে অংশ নিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি যোগ্য নাগরিক যেন ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি, পুরনো তথ্য সংশোধন, এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।
তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সবাইকে BLO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নতুন এই ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে।
এখন আর ফর্ম জমা দিতে আলাদা কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না, শুধুমাত্র সঠিক তথ্য পূরণ করলেই নাম যুক্ত হবে খসড়া ভোটার তালিকায়।
এটি শুধু প্রক্রিয়া সহজ করছে না, বরং সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকারকে আরও শক্তিশালী করছে।

তাই আপনি যদি এখনও SIR ফর্ম পূরণ না করে থাকেন — দেরি না করে BLO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং আপনার ভোটার তালিকার তথ্য হালনাগাদ করুন।