পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প’ আবারও শিরোনামে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রকল্পটিতে যোগ হয়েছে একাধিক নতুন নিয়ম, যার ফলে আর্থিক সাহায্য পেতে হলে এখন থেকে পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে তৈরি এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—একাদশ, দ্বাদশ, ITI, পলিটেকনিক এবং কিছু নির্দিষ্ট স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন কেনার জন্য সাহায্য করা।

এ বছর প্রকল্পের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। বিশেষভাবে Self-Declaration বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা না করলে ছাত্রছাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা অনুদান জমা হবে না

এই প্রতিবেদনে থাকছে—২০২৫ সালের নতুন নিয়ম, কারা যোগ্য, কীভাবে আবেদন করবেন, কোন কাগজ লাগবে এবং প্রতিটি ধাপের সহজ ব্যাখ্যা।

২০২৫ সালে কী পরিবর্তন এল? Self-Declaration বাধ্যতামূলক

আগে কী হত?
স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য আপলোড হওয়ার পর কোনও অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন ছাড়াই ১০,০০০ টাকা সরাসরি পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত।

এবার কী হবে?
২০২৫ সালের নতুন নিয়মে রাজ্য সরকার ডবল ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালু করেছে যাতে জালিয়াতি, ভুল তথ্য ও ফেক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার বন্ধ করা যায়।

নতুন নিয়ম (২০২৫):

  • স্কুল পোর্টালে তথ্য আপলোড করলে পড়ুয়ার মোবাইলে SMS যাবে।
  • সেই SMS-এ প্রদত্ত লিঙ্কে গিয়ে পড়ুয়াকে Self-Declaration ফর্ম জমা দিতে হবে
  • OTP ভেরিফিকেশন হবে আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে।
  • এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে কোনওভাবেই টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে না।

প্রকল্পের মূল তথ্য এক নজরে

নীচের টেবিলে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হল:

বিষয় বিবরণ
প্রকল্পের নাম তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প (Taruner Swapna Scheme)
উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকার
সুবিধাভোগী একাদশ–দ্বাদশ, ITI, পলিটেকনিক, কিছু UG কোর্স
আর্থিক সাহায্য একবারে ১০,০০০ টাকা
উদ্দেশ্য ট্যাবলেট, স্মার্টফোন বা পিসি কেনা
নতুন নিয়ম Self-Declaration বাধ্যতামূলক
যাচাই আধার OTP ভেরিফিকেশন
কবে টাকা পাবে? Self-Declaration সম্পন্ন হওয়ার পর

কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবে? (Eligibility Criteria)

রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শুধুমাত্র নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই পড়ুয়ারা ১০,০০০ টাকা পাবেন। যোগ্যতা:

১. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে

প্রমাণপত্র (Residential Certificate/ Aadhaar) লাগবে।

২. নিম্নলিখিত শ্রেণীতে পড়তে হবে

  • একাদশ শ্রেণি
  • দ্বাদশ শ্রেণি
  • ITI শিক্ষার্থী
  • পলিটেকনিক শিক্ষার্থী
  • নির্দিষ্ট Undergraduate Vocational কোর্স

৩. পরিবারে বার্ষিক আয় ২,০০,০০০ টাকার কম

সরকার নির্ধারিত আয় শংসাপত্র আবশ্যক।

৪. পূর্ববর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে

কোনো ধরনের backlog থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

৫. পশ্চিমবঙ্গের কোনও ব্যাংক শাখায় নিজের অ্যাকাউন্ট

  • অ্যাকাউন্ট অবশ্যই ছাত্রছাত্রীর নিজের নামেই হতে হবে
  • ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতা জমা দিতে হবে

আবেদন করার পদ্ধতি (How to Apply for Taruner Swapna 2025)

এই প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের আলাদা করে অনলাইন আবেদন করতে হয় না। আবেদন প্রক্রিয়া মূলত স্কুলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে নতুন নিয়মে Self-Declaration ধাপ যুক্ত হয়েছে।

ধাপ ১: স্কুলে ফর্ম জমা

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে নিচের ফর্মটি জমা দিতে হবে:

  • Annexure-F Form

সঙ্গে জমা দিতে হবে নিচের কাগজপত্র।

কোন কোন নথিপত্র লাগবে?

নীচের ডকুমেন্ট না থাকলে আবেদন অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে:

  • আধার কার্ড (লিঙ্কড মোবাইল নম্বরসহ)
  • ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতা বা ক্যানসেল চেক
  • আয়ের শংসাপত্র
  • বসবাসের প্রমাণপত্র
  • সক্রিয় মোবাইল নম্বর
  • সর্বশেষ পরীক্ষার মার্কশিট

স্কুল কর্তৃপক্ষ তথ্য Banglar Shiksha Portal–এ আপলোড করলেই পরবর্তী ধাপ শুরু হয়।

Self-Declaration কীভাবে করবেন?

এটাই ২০২৫ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Self-Declaration ধাপ:

  1. স্কুল তথ্য আপলোড করলে ছাত্রছাত্রী SMS পাবে।
  2. SMS-এ দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন:
    👉 selfdeclaration.wb.gov.in
  3. নিজের আধার নম্বর দিন।
  4. মোবাইলে OTP আসবে → ভেরিফাই করুন।
  5. নিজের তথ্য যাচাই করে “Submit Declaration” করুন।

✔ কাজ শেষ!
এই ধাপ সম্পন্ন হলেই টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

 টাকা পাওয়ার পর কী করবেন?

রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী:

  • ১০,০০০ টাকা পাওয়ার পর ট্যাব/মোবাইল/পিসি কেনার রসিদ স্কুলে জমা দিতে হবে
  • বিল জমা না দিলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে
  • স্কুল রেকর্ডে ক্রয়ের প্রমাণ রাখতে হবে

কোন ভুল করলে টাকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে?

পড়ুয়াদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ নিচের ভুল করলে টাকা আটকে যেতে পারে:

  • Self-Declaration না করা
  • আধার লিঙ্ক না থাকা
  • ব্যাকলগ থাকা
  • ভুল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেওয়া
  • আয়ের শংসাপত্র ভুল বা মেয়াদোত্তীর্ণ
  • মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে স্কুলকে না জানানো

কেন Self-Declaration জরুরি?

সরকার জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে একাধিক:

  • ভুল তথ্য
  • ডুপ্লিকেট এন্ট্রি
  • ফেক অ্যাকাউন্ট
  • এলাকার বাইরে থাকা ছাত্রছাত্রীর নামে দাবি
    এসব সমস্যা ধরা পড়েছিল।

তাই এবার ২০২৫ থেকে Self-Declaration + Aadhaar OTP Verification বাধ্যতামূলক।

‘তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প ২০২৫’ নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক মহৎ উদ্যোগ। ডিজিটাল শিক্ষা আরও সহজলভ্য করতে সরকারের এই নীতির পরিবর্তন স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা বাড়াবে। তবে নতুন নিয়মে Self-Declaration বাধ্যতামূলক হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের সাবধান ও সচেতন হয়ে সমস্ত ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

এক কথায়—Self-Declaration না করলে ১০,০০০ টাকা পাওয়া যাবে না।
তাই SMS পেলেই নির্দিষ্ট সময়ে পোর্টালে লগইন করে ভেরিফিকেশন করে নেওয়া জরুরি।